পৃথিবীঃ কানিজ ফাতেমা আখি

পৃথিবীঃ কানিজ ফাতেমা আখি

।।পৃথিবী।।
চারদিকে শুধু নীলচে ধুলো ছাড়া কিছুই দেখা যাচ্ছে না। চোখ বুজে আসছে আমার। কি হচ্ছে কিছুই মাথায় ঢুকছে না। সবাই যেন কিসের পিছনে অনির্বাণ ছুটে চলছে। কি এমন হয়েছে! এভাবে ছুটছে কেন সবাই??? নিচের দিকে চোখ যেতেই আঁতকে উঠলাম, একি!! আমি নিজেও দৌড়াচ্ছি?? দূরে একটা জায়গায় বেশ ভিড় দেখা যাচ্ছে যদিও ধূলোর জন্য পুরোটাই ঘোলা। আন্দাজ করে বুঝে নিলাম। প্রত্যেকে সেখানেই যাচ্ছে, আমিও। কাছে থেকে দৃশ্যমান হতেই বুঝতে পারলাম বিরাট বড় কিছু একটাকে ঘিরে ভিড়। বস্তুটাকে বিরাট বড় জাহাজ বললে খুব খারাপ হয়না, শুধু জাহাজ নয় উড়ন্ত দানবাকৃতির জাহাজ। ১০০ টাইটানিক এর কাছে সামান্য। এতো মানুষের আর্তনাদে কানটা ঝাঁঝরে যাচ্ছিল। তাই বারংবার কানের ভেতর আঙুল টিপে রাখার চেষ্টা করছিলাম কিন্তু অবিরাম ছুটে চলার দরুন তা সম্ভব হয়নি। প্রত্যেকে বিশালাকৃতির জাহাজে উঠে যেতে হাস-ফাস করছে, যে সুযোগ পাচ্ছে সেই তরতর করে উঠে যাচ্ছে। এই প্রক্রিয়া চললো বেশ খানিকক্ষণ। আমিও এ প্রক্রিয়ায় শামিল হলাম। অনেক ধস্তাধস্তির পর একপর্যায়ে আমি উঠে যেতে সক্ষম হলাম। খুব হাঁপাচ্ছি আমি, জিভও শুকিয়ে গেছে। সবার উঠার পালা শেষ করে জাহাজটা সাঁই করে উড়তে আরম্ভ করলো। কিন্তু কোথায় যাচ্ছে?? জানতে চাইলাম একজনের কাছে। তার কথায় বুঝতে পারলাম, পৃথিবীর অবস্থা একেবারেই ভালো না। তাই যে যেভাবে পারছে এখান থেকে পালিয়ে যাচ্ছে। আশ্চর্য! এই পৃথিবীকে দেখে চেনার উপায় নেই। আমার সময়ের মঙ্গল গ্রহের চেয়েও বাজে দেখাচ্ছে। মানুষ পৃথিবীর এই হাল করলো?? ভাবতে ভাবতেই বুক মুচড়ে নিশ্বাস বেরিয়ে এলো। এইমাত্র পৃথিবী অতিক্রম করলাম,নতুন এক গ্রহের দিকে এগোচ্ছি। সেই গ্রহে পা রাখার পর জানতে পারলাম এটা মঙ্গল। আগের থেকে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। যেটা দেখে আসলাম ঠিক তার উল্টো। হঠাৎ চোখের সামনে দৃশ্যটা উবে যেতে লাগলো। “তোমার সময় শেষ!! ”
বুঝতে পারলাম, নিজের জাগায় ফিরে এসেছি। “কি কি দেখলে? জলদি জানাও। ”
– বস! খুব ভয়ানক জিনিস দেখিয়েছে আমাকে এই টাইম মেশিন। আমাদের এক্ষুনি পৃথিবীটা বাঁচাতে কাজে লাগতে হবে। আপনি এতো বড় বিজ্ঞানী আপনি বললে নিশ্চয়ই সবাই গুরুত্ব দিবে।

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *