ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগ

ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগ

হেফাজতে ইসলামের চলমান আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে জকিগঞ্জে এক ছাত্রলীগ নেতা পদত্যাগ করেছেন। ওই নেতা পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি হাফিজ মাজেদ। শনিবার রাতে তার নিজের ফেসবুক আইডি থেকে এক স্ট্যাটাস দিয়ে ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগ করেন।

এর আগেও নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশে আগমনের প্রতিবাদে হেফাজতে ইসলামের পক্ষ নিয়ে হবিগঞ্জের ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগ করেছেন তিন নেতা। এরা হলেন, হবিগঞ্জ পৌর ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক হেলাল উদ্দিন জনি, হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ১০নং লস্করপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক মহসিন আহমেদ মুন্না এবং হবিগঞ্জ পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল আলম আকামিন।

শুক্রবার (২৬মার্চ) রাতে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগ বরাবরে নিজ নিজ ফেসবুক থেকে খোলা চিঠির মাধ্যমে তারা এসব পদগুলো ত্যাগ করেন।

পদত্যাগী ছাত্রলীগ নেতা ফেসবুক স্ট্যাটাসে দেখা যায়,  তারা পৌরসভা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে উদ্দেশ্য করে লেখেন, ‘মুসলিম জনতার মানবতাকে উপেক্ষা করে ভারতের ইসলাম বিদ্বেষী, সীমান্ত হত্যাকারী, কাশ্মীর দখলকারী, কসাই মুদিকে দেশে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ও নামাজি মুসলমানদের ওপর বর্বর নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের মতো ঘৃণ্যতম কাজের কারণে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি পদ থেকে পদত্যাগ করলাম। আমার কথা হলো যে দলে ইসলামকে সম্মান দিতে পারে না, জনগণের ই”ছার কথার মূলা দেওয়া হয়না। যারা ভাস্কর্যকে হালাল মনে করে,যারা রাম রাম নাস্তিকদের কথা শুনে সেই দলে কোনো মুসলমান থাকতে পারে না, আমিও থাকতে পারিনা। আজকে থেকে বয়কট করলাম ছাত্রলীগ। এখনই আমার প্রোফাইল থেকে যুগ্ম আহবায়ক পদটি ডিলিট করে দিলাম। যদি কোনো দিন বঙ্গবন্ধুর পূর্ণ আদর্শ ছাত্রলীগের মাঝে ফিরে আসে এবং ভারতের দালালী বাদ দেয় দেশের আলেম উলামাকে সম্মান পেয়ে, হারাম এবং গুনার কাজ থেকে সরকার বিরত থাকে তখন দেখবো কি করা যায়। এর আগ পর্যন্ত- আওয়ামিলীগ ও ছাত্রলীগের দালালী বাদ দিয়ে দিলাম।

একজন মুসলমান হিসাবে কোরআন হাদিস মুতাবেক আগে ইসলামকে প্রাধান্য দেওয়া ফরজ। তাই আমার প্রিয় মুসলমান ছাত্রলীগ ভাইদের বলছি যার ভিতরে ঈমান আছে, যদি মনে করেন একদিন মরতে হবে আপনার বিচার হবে তাহলে। আপনিও আমার মতো দুনিয়ার দল ও লোভ লালসা বাদ দিয়ে ইসলামের সাথে থাকবেন। আর আমাদের মনে রাখবেন ভারত কোনো দিন মুসলমানদের বন্ধু হতে পারবেনা। তাই পবিত্র কোরআনের ২৬ আয়াত বাদকারী এই কুলাঙ্গার মুদির দেশকে না বলুন।’।

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *