বিকল্প উপায়ে ফেসবুক ব্যবহার, জেনে নিন ক্ষতিকর দিকগুলো

বিকল্প উপায়ে ফেসবুক ব্যবহার, জেনে নিন ক্ষতিকর দিকগুলো

দেশে ফেসবুক এবং এর ম্যাসেজিং প্ল্যাটফর্ম ম্যাসেঞ্জার স্বাভাবিকভাবে ব্যবহারে বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। ফলে বিকল্প উপায়ে জনপ্রিয় এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করছেন অনেকে। এতে করে বেড়েছে নিরাপত্তাহীনতা।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এর পক্ষ থেকে শুক্রবার (২৬ মার্চ) বলা হয়েছিল, কারিগরি ত্রুটির কারণে ব্যবহারকারীরা অ্যাপ দুটি ব্যবহার করতে পারছে না।

ওইদিন এ বিষয়ে ফেসবুকের এক মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশে ফেসবুক ও মেসেঞ্জার সেবা সীমিত হওয়ার বিষয়টি তারা জানতে পেরেছেন। বিষয়টি সম্পর্কে আরও ভালো করে জানার চেষ্টা করছেন। আশা করা যায়, খুব শীঘ্রই এ সমস্যার সমাধান হবে।

তবে ফেসবুক বন্ধ থাকার পরও বিকল্প পথে কেউ কেউ ফেসবুক ব্যবহার করছেন। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলছেন, এতে নতুন করে অনেক মানুষ সাইবার নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে প্রবেশ করছেন। কারণ বিকল্প পথে বিভিন্ন ব্রাউজার এবং অ্যাপ-এর মাধ্যমে ফেসবুক ব্যবহার করাটা স্বাভাবিকভাবেই সাইবার নিরাপত্তার জন্য হুমকি। যারা এটা করছেন তারা অনিরাপদ এবং সাইবার হুমকির মধ্যে রয়েছেন।

বিকল্প মাধ্যম হিসেবে বর্তমানে ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন) ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে ভিপিএন ব্যবহারে কিছু সমস্যা রয়েছে। সমস্যার কারণেই ভিপিএন ব্যবহার না করাই ভালো।

যে ৫ কারণে ভিপিএন ব্যবহার করা ঠিক নয়:-

ভিপিএন ব্যবহার করা অবৈধ: প্রায় সব দেশেই সাধারণ নাগরিকদের ভিপিএন ব্যবহার করা অবৈধ। অনেক দেশে ভিপিএন ব্লক করা রয়েছে। আপনি যদি এমন কোনো দেশে অবস্থান করেন যে দেশ ভিপিএন ব্যবহার করাকে নিষিদ্ধ করেছে তবে আপনার অবশ্যই ভিপিএন ব্যবহার করা উচিত হবে না।

তথ্যের গোপনীয়তা নষ্ট হয়: ভিপিএন তৈরি হয়েছে তথ্যের গোপনীয়তা সংরক্ষণ করার জন্য। কিন্তু প্রকৃত অর্থে ভিপিএনে তথ্যের গোপনীয়তা থাকে না। ভিপিএন কোম্পানিগুলো ব্যবহারকারীকে নজরদারিতে রাখতে পারে এবং এর মাধ্যমেই তারা ব্যবসা পরিচালনা করে। তাই ফেসবুক, টুইটার বা অন্য কোনো ওয়েবসাইট ব্লক করে রাখা হলে ব্যবহারকারীদের কখনোই ভিপিএন ব্যবহার করা উচিত নয়।

ব্যবসায়ীদের জন্য নিরাপদ নয়: ব্রাউজার থেকে ব্যবহারকারীরা সহজেই ভিপিএন ডাউনলোড করতে পারলেও ব্যবসায়ীদের জন্য সেটি মোটেও নিরাপদ নয়। ভিপিএনের ব্যবসায়ী ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট তৈরিতে অনেক জটিলতা রয়েছে। ব্রাউজার ব্যবহার করে ভিপিএন ডাউনলোড করা একজন ব্যবসায়ীর পক্ষে মোটেই কল্যাণকর নয়।

ইন্টারনেট সংযোগ চলে ধীরগতিতে: যখন আপনি ভিপিএন নেটওয়ার্কে প্রবেশ করবেন তখন ভিপিএন সার্ভারে একাধিক স্তরের নিরাপত্তা বা প্রাইভেসি রাখা হয় এর মাধ্যমে যদিও ওয়েবসাইটে নিজের আইপি অ্যাড্রেস গোপন রেখে ঢোকা যায় কিন্তু ইন্টারনেট সংযোগ ধীরগতিতে চলতে থাকে। অনেক সময় স্মার্টফোন ডিভাইস ধীরগতিতে চলে এবং মাঝেমধ্যে হ্যাং করে। তাই স্মার্টফোনে ভিপিএন ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

শতভাগ গোপনীয়তা অবলম্বন করা সম্ভব নয়: অনেকে মনে করেন ভিপিএনে শতভাগ গোপনীয়তা অবলম্বন করা যায়। এটি সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ধারণা। কারণ গুগল, ফেসবুকসহ অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের মতো ভিপিএন কোম্পানি ব্যবহারকারীর তথ্য নিয়ে তার পছন্দ ও রুচি অনুযায়ী কনটেন্ট সরবরাহ করে। ভিপিএনে তাই শতভাগ গোপনীয়তা অবলম্বন করা সম্ভব নয়।

এদিকে শনিবার (২৭ মার্চ) রাতে একটি বিবৃতি দিয়ে ফেসবুক জানায়, বাংলাদেশে শুক্রবার থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও এর মেসেজিং অ্যাপ ডাউন করে রাখা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশে ফেসবুক সীমিত করার বিষয়টি আমরা জানি। আমরা এটি বোঝার চেষ্টা করছি। সবাই যাতে দ্রুত পুরো একসেস পায় সেজন্য আমরা কাজ করছি। করোনা ভাইরাস মহামারির সময় যখন কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন, তখন বাংলাদেশ সরকার যেভাবে ফেসবুকের সেবা সীমিত করেছে তা উদ্বেগজনক।

ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো জানায়, ফেসবুক বন্ধের জন্য এখন সরকারকে আর ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার বা মোবাইল অপারেটরদের ওপর নির্ভর করতে হয় না। সরকারের হাতেই সে ধরনের প্রযুক্তি রয়েছে।

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *