সাকিবের মসজিদ নির্মাণ মেনে নিতে পারছেন না তসলিমা নাসরিন

সাকিবের মসজিদ নির্মাণ মেনে নিতে পারছেন না তসলিমা নাসরিন

বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান ধর্মপ্রাণ মসুল্লিদের সালাত আদায়ের জন্য তাঁর নানার বাড়ি এলাকায় একটি মসজিদ নির্মাণ করেছেন। যদিও গত বছর এপ্রিলে মসজিদটি উদ্বোধন করা হয়েছিল, তা এখনও মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়নি। জানা গেছে মসজিদ নির্মাণের এই মহৎ কাজটি সাকিব নিজেই প্রচার করতে চাননি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাগুরায় জন্মগ্রহণকারী সাকিব নিজ জেলার আলোকদিয়ার বারাশিয়ায় তাঁর নানার বাড়ির এলাকায় মসজিদটি নির্মাণ করেছেন। বারাশিয়া পূর্বপাড়া জামে মসজিদ নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা। একতলা মসজিদের ভিতরে ছয়টি কাতার তৈরি করা হয়েছে। প্রতি কাতারে ৪০ জনের মত মসুল্লি সালাত আদায় করতে পারবেন।

গত বছরের এপ্রিলে মসজিদটি উদ্বোধন করা হয়েছিল। মসজিদের ইমামের দায়িত্ব পালন করছেন মুফতি মোঃ আতিক উল্লাহ। মুফতি আতিক উল্লাহর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, উদ্বোধনের পর থেকে তিনি মসজিদে ইমামতি করছে। নানার বাড়ী এলাকায় সাকিবের এই মহৎ কাজ দেখে স্থানীয়রা খুব খুশি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় এক মাদ্রাসার শিক্ষক সাকিবের ছোট মামা বাবলুর রহমান বলেন, সাকিব নিজের অর্থায়নে এখানে একটি মসজিদ তৈরি করেছিলেন। তবে তিনি বিষয়টি প্রকাশ করতে চাননি।

বিশ্বেসেরা অলরাউন্ডারের এই প্রচারবিমূখ উদ্যোগ মানুষকে প্লাবিত করেছে। তিনি ধর্মীয় লোকদের অন্তরে জায়গা করে নিয়েছেন।

তবে বিতর্কিত ও সমালোচিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন তার ভেরিফাই ফেসবুক পোস্টে সাকিব আল হাসানের মসজিদ নির্মাণ সম্পর্কে লিখেছেন—‘সাকিবের প্রচুর টাকা। নিউ ইয়র্কে বিশাল বাড়ি তাঁর। আর কোন কোন শহরে বাড়ি কিনেছেন জানা নেই আমার। তবে আজকের খবর হলো, তিনি তাঁর নানাবাড়ি মাগুরায় একখানা মসজিদ বানিয়ে দিয়েছেন। আমার প্রশ্ন, ওখানে কি অভাব ছিল মসজিদের? আমি নিশ্চিত, অভাব ছিল না। যদি অভাব কিছুর থেকে থাকে তবে ভালো হাসপাতালের, ভালো কলেজের, ভালো বিজ্ঞান একাডেমির, ভালো ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের, ভালো পাবলিক লাইব্রেরির। কিন্তু সাকিব তাঁর টাকার শ্রাদ্ধ করলেন কচুরিপানা ভর্তি পুকুরে আরও একখানা কচুরিপানা ছেড়ে’।

তিনি আরো লিখেন, ‘কী হবে এরপর? ক’দিন পর মসজিদের ইমাম কোনও শিশুকে ধর্ষণ করবেন, ক’দিন পর মুয়াজ্জিন করবেন, ক’দিন পর মসজিদ কমিটি একটি ধর্ষণাগার ওরফে মাদ্রাসা বানানোর জন্য সাকিবের কাছে আবেদন করবেন। দৃশ্যগুলো তো আমরা চোখ বুজেই দেখতে পাচ্ছি’।

জানা যায়, লেখকের তসলিমা নাসরিন দীর্ঘদিন ধরে ইসলাম বিদ্ধেষ করে আসেন। এসবের কারণে তাকে দেশত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়।

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *