১০২ টাকায় দুর্গ বিক্রি ছেলের, আদালতে জার্মানির রাজপুত্র

১০২ টাকায় দুর্গ বিক্রি ছেলের, আদালতে জার্মানির রাজপুত্র

দুর্গ দখলকে ঘিরে ঘোর অশান্তি জার্মানির রাজপরিবারে! আর সেই অশান্তি গড়াল আদালত পর্যন্ত। রাজপুত্র বাবার অভিযোগ, তার ছেলে পানির দরে বেচে দিয়েছে একটি দুর্গ। দর বলতে বাংলাদেশী মুদ্রায় মাত্র ১০২ টাকা ৩৪ পয়সা! রাজ-ঐতিহ্য ফের নিজের দখলে আনতে ছেলের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দিয়েছেন তিনি।

 

উত্তর জার্মানির সবচেয়ে বড় শহর হ্যানোভার। সেখানকার রাজবংশের অন্যতম সদস্য তথা রাজপুত্র আর্নস্ট আগস্ট সিনিয়রের অভিযোগ, তাঁদের পূর্বপুরুষদের তৈরি একটি দুর্গ বিক্রি করে দিয়েছেন ছেলে আর্নস্ট আগস্ট জুনিয়র। ছেলের এই কাণ্ডকারখানা তিনি ঘুনাক্ষরেও জানতেন না। যখন জানলেন তখন দুর্গটি সরকারের কব্জায়। তার চেয়েও বড় কথা, দুর্গের ভিতর ১৩৫টি ঘর। প্রতিটি ঘরে ঠাসা আসবাবপত্র। সবমিলিয়ে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি। জুনিয়র আগস্ট সরকারের হাতে তুলে দিয়েছেন মাত্র মাত্র ১০২ টাকা ৩৪ পয়সার বিনিময়ে। এভাবে রাজ-গরিমাকে হারিয়ে বেজায় চটেছেন সিনিয়র। অবিলম্বে সম্পত্তি ফিরে পেতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।

 

বাবার দায়ের করা মামলাকে অবশ্য মোটেই পাত্তা দিচ্ছেন না জুনিয়র। তার বক্তব্য, ‘আমি সঠিক কাজই করেছি। দুর্গের ঠিকঠাক সংরক্ষণে আমার এই সিদ্ধান্ত।’

 

হ্যানোভারের অত্যন্ত পরিচিত এলাকা লোয়ার স্যাকসনি। ১৮৬৭ সালে দুর্গটি তৈরি হয়েছিল সেখানে। ইতিহাসের পাতায় মেরিনবার্গ দুর্গ নামে পরিচিত। পর্যটকদের কাছে অন্যতম দ্রষ্টব্য। রাজপরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০০০ সালের মাঝামাঝি ৬৬ বছরের আর্নস্ট আগস্ট সিনিয়র ওই দুর্গের পাশাপাশি সংলগ্ন ক্যালেনবার্গ এস্টেটও তুলে দেন ছেলের হাতে। তার আশা ছিল, ছেলে এই বিপুল অঙ্কের সম্পত্তির সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারবেন। কিন্তু সেই আশায় পানি ঢেলে দিয়েছেন জুনিয়র।

 

২০১৮ সালে দুর্গটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে দেখেন বিশেষজ্ঞরা। তারা জানিয়ে দেন, দ্রুত সংস্কার করতে হবে। এরজন্য প্রয়োজন বিপুল অঙ্কের টাকা। প্রাথমিক খরচ ধরা হয় দু’কোটি ৩৪ লাখ ইউরো। যা বহন করা জুনিয়র আগস্টের পক্ষে সম্ভব ছিল না। ফলে তখনই তিনি ঠিক করেন, দুর্গটি তুলে দেবেন সরকারের হাতে। যাতে দেশ ও জাতির জন্য সেটি সঠিকভাবে সংরক্ষিত হয়।তাই রীতিমতো ঘোষণা করে প্রতীকী এক ইউরো বা ১০২ টাকা ৩৪ পয়সার বিনিময়ে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ওই দুর্গ জুনিয়র আগস্ট বিক্রি করে দেন লোয়ার স্যাকসনির স্থানীয় প্রশাসনের কাছে।

 

অবশ্য সিনিয়রের বক্তব্য, তার সম্মতি ছাড়া জুনিয়র ওই দুর্গ বিক্রি করতে পারেন না। তার দানের সম্পত্তি বিক্রি করে দেয়ায় ছেলেকে ‘অকৃতজ্ঞ’ও বলেছেন তিনি। তার অভিযোগ, পারিবারিক শিল্পকর্ম ও দুষ্প্রাপ্য জিনিসপত্র অন্যায়ভাবে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। জুনিয়রের অবশ্য দাবি, দুর্গ বিক্রির প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বৈধ।

 

সূত্র : বর্তমান
Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *