ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২১
বাবা-মা ও বাড়ির সন্ধান চায়ে তানিয়া

বাবা-মা ও বাড়ির সন্ধান চায়ে তানিয়া

১৮ বছর আগে বাবার সাথে ঢাকায় ফুপাত বোনের বাসায় বেড়াতে গিয়ে সাত বছরের শিশু তানিয়া নিখোঁজ হয়। তানিয়া ব্রাম্মনবাড়িয়া জেলার আখাউড়া উপজেলার শান্তিনগর গ্রামের মো. আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী।

 

বর্তমানে ২ সন্তানের জননী তানিয়া এখন তার বাবা-মা ও বাড়ির সন্ধান পেতে চায়ে।

 

জানা যায়, তার বাবার নাম সুন্দর আলী শিকদার, মাতার নাম বিলকিস বেগম। বাবা ভ্যান চালক ছিল। ৩ বোন ও ১ ভাইয়ের মধ্যে তানিয়া সবার বড়। আরেক বোনদের নাম সোনিয়া ও মনিকা এবং ভাইয়ের নাম কাইয়ুম। তার বাড়ির নাম মঠবাড়িয়ার বান্দাবাড়ি এবং নানা বাড়ি বলতুলি বলে জানান। তবে মঠবাড়িয়ায় এই নামে কোন স্থান নেই জানালে তানিয়া জানান, শিশু বয়সে বাড়ি ছাড়ায় হয়ত সে নাম স্পষ্ট বলতে পারছে না।

 

তানিয়া জানান, প্রায় ১৮ বছর আগে মাত্র ৭ বছর বয়সে বাবার সাথে লঞ্চে ঢাকা লালমাটিয়ায় সরকারি কোয়াটারে তার ফুফাত বোনের (নাম জানা নাই) বাসায় বেড়াতে যায়। তার বোন ও বোন জামাই চাকরীজীবি ছিল। পরদিন সকালে এসে তাকে নিয়ে যাবে বলে তার বাবা বাড়িতে চলে আসে। তানিয়া ফুফাত বোনের সন্তানকে নিয়ে স্কুলে যায়। শিশু তানিয়া স্কুল থেকে বাবার খোঁজে রাস্তায় নেমে হাটতে থাকলে এক সময় স্কুল ও বোনের বাসা হারিয়ে ফেলে।

 

তানিয়ার স্বামী আনোয়ার হোসেন জানান, পথ হারিয়ে তানিয়া ওই দিন সন্ধায় লালমাটিয়ার একটি দোকানের সামনে বসে কাঁদতে থাকলে দোকানে টিভি দেখতে থাকা জনৈক ব্যাক্তি তানিয়াকে তার বাসায় নিয়ে যায়। পরদিন লালমাটিয়ার একটি মসজিদের ইমাম মো. রিপন ওই বাসা থেকে তানিয়াকে তার বাসায় নিয়ে লালন পালন করেন। ইমাম রিপনের বাড়িও ব্রাম্মনবাড়িয়া জেলায় হওয়ার সুবাদে তাদের মধ্যে পরিচয়। এক পর্যায় ২০১৪ সালে তানিয়ার সাথে আনোয়ারের বিয়ে হয়। আনোয়ার হোসেনের স্ব-মিলের ব্যবসা আছে। বর্তমানে তারা মেয়ে লামিয়া (৫) ও ছেলে জামির (২) এর বাবা-মা।

 

আনোয়ার হোসেন জানান, বান্দাবাড়ি ও বলতুলি পিরোজপুর অথবা গোপলগঞ্জ জেলার কোন স্থান হতে পারে। ২ বছর আগে সে মঠবাড়িয়া ও গোপালগঞ্জে এসে খোঁজা-খুঁজি করলেও কোন সন্ধান পায়নি।
তানিয়া তার জন্মদাতা বাবা-মার জন্য এখনও নিরবে চোখের পানি ফেলে দিন কাটায়। কেউ খোঁজ পেলে তার স্বামী মো. আনোয়াার হোসেনের মোবাইল নম্বরে (০১৭১০-২২০২২৪) যোগাযোগের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *