কবিতাঃ
কুরবানী হলো ত্যাগের নাম

লেখকঃ
সাংবাদিক সুমাইয়া আক্তার শিখা

পশুর গলে অসি দিয়ে কুরবানী সব করে,
       পশু মনের কুরবানীটা কে করিতে পারে?
রবের হুকুম পালন করে পশু যবেহ করে,
        রবের তরে হয় না তো খুন মানুষ ভুবন পরে।
পশুগুলো যবেহ করা তাঁরই বিধান,
পশু মনের মানুষ কেন হয়নি নিধন।
বিধির বিধান মেনে মানুষ পশু করে খুন,
কার বিধান মেনে মানুষ, 
 মানুষ করে খুন?
চারিদিকে আজ খুশির জোয়ার
সবাই গাইছে গীত,
এসেছে ধরায় মুসলিম জাহানের
প্রিয় কুরবানির ঈদ।
সবাই ঈদে কুরবানি দিবে
প্রতিপালকের তরে,
মানব মনের পশুত্বটা যেন
একেবারেই যায় মরে।
নয় এটা কোন সামাজিক রীতি
এটা বড় উপাসনা,
বিজ্ঞ এমন সকল লোকের
এই কথাটা জানা।
কিছু মুর্খ কুরবানিকে ভেবে
সামাজিক রীতি নীতি,
টাকার গরম দেখাচ্ছে তারা
ভুলে স্রষ্টার ভীতি।
বেশী দাম দিয়ে গরু কিনে তারা
করে যায় অহঙ্কার,
কুরবানির সেই মহত্বটাকে
ভেঙ্গে করে চুরমার।
তারা তো জানেনা আল্লাহর কাছে
রক্ত মাংস পৌছেনা,
নিয়্যতটাই শুধু দেখার ছিল
খেয়ালে তাদের ধরেনা।
কুরবানি হল ত্যাগের নাম
ভোগের সাথে তার দ্বন্দ,
ভোগের জন্য কুরবানি করা
কাজটা বড়ই মন্দ।
অনাহারীকে আহার না দিয়ে
নিজেরাই আহার করলে,
কুরবানি তার কবুল হবেনা
শত গরু ছাগল মারলে।
শুধু পশু মারার নাম কুরবানি না
এতে আছে কিছু দর্শন,
নিজের মনের পশুত্বটাকেও
দিতে হবে বিসর্জন।
মহত্বটা উপরে তোলে
পশুত্ব যখন দিবে বাদ,
তখনি কেবল মানুষ হবে
আশরাফুল মাখলুকাত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!