সুমাইয়া আক্তার শিখা

স্টাফ রিপোর্টারঃ

করোনা মহামারির কারণে মানুষের আয়-রোজগার কমে গেছে, উৎপাদন কমে গেছে, মানুষ চাকরি হারিয়ে বেকার হচ্ছে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বাড়ছে ক্ষুধা, দারিদ্র্য। এমন পরিস্থিতিতে উৎপাদনের উপর জোর দেয়ায় তাগিদ দিয়েছেন হেযবুত তওহীদের এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম,তিনি এক বার্তায় বলেন,
মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা, মানুষের ক্ষুধা নিবারণের চেষ্টা। করা। এক্ষেত্রে কৃষির উপর জোর দেয়ার বিকল্প নেই। কারণ মানুষের খাদ্য চাহিদা পূরণ হয় কৃষি থেকেই। আমরা হেযবুত তওহীদ আমাদের আওতাধীন প্রতি ইঞ্চি মাটি, প্রতিটি জলমহলকে উৎপাদনের আওতায় আনার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা আমাদের নিজেদের ব্যবস্থাপনায় কৃষি, মৎস্য, কৃষিনির্ভর ব্যবসা, কুটিরশিল্পের বিস্তার ঘটিয়েছি। আমাদের মধ্যে আল্লাহর রহম কেউ বেকার নেই। যার যেটাতে সামর্থ্য আছে সে সেটাতে শ্রম দিচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি এক হয়ে বাঁচতে। একতাই বল। একটা জাতি যত ছোটই হোক তারা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে তাহলে যেকোনো কঠিন সংকট মোকাবেলা করতে তারা সক্ষম হয়।

তিনি আরো বলেন,সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে মানবসমাজও পরিবর্তিত হয়। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন সমস্যার উদয় হয়, আর সেসবের সমাধানের মধ্য দিয়েই মানবসভ্যতাকে অগ্রবর্তী হতে হয়। এই বাস্তব জীবনের সমস্যাগুলোর সমাধান দেওয়ার জন্যই আল্লাহ যুগে যুগে নবী-রসুলদের মাধ্যমে দীন বা জীবনব্যবস্থা পাঠিয়েছেন। তাই আল্লাহর নাজিল করা দীন মানবজাতির প্রগতিকে তরান্বিত করে, কখনও সভ্যতার চাকাকে পেছনের দিকে টেনে ধরে না। যেহেতু হেযবুত তওহীদ ইসলামের প্রকৃত আদর্শ তুলে ধরছে তাই সমাজের বাস্তব সমস্যাগুলোকে পাশ কাটিয়ে কেবল পরকালের মুক্তির বাণী প্রচার করা হেযবুত তওহীদের নীতি নয়। ইহকাল ও পরকাল দুটো নিয়েই আমাদের জীবন। তাই আল্লাহর দীনের প্রতিটি বিধান ইহকাল ও পরকাল উভয়জীবনের ভারসাম্যকে রক্ষা করেই প্রণীত। আমরা বিশ্বাস করি, মানবজাতিকে একটি ন্যায়পূর্ণ মহান সভ্যতা উপহার দেওয়ার মাধ্যমেই পরকালীন মুক্তি সম্ভব।

একটি সভ্যতা মানেই সেখানে নিজস্ব শিক্ষাব্যবস্থা, বাণিজ্য ও অর্থনীতিক ব্যবস্থা, নগর পরিকল্পনা, উৎপাদন ব্যবস্থা, চিকিৎসা ব্যবস্থা, বিবাদ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা ইত্যাদি থাকবে। বর্তমানের দুর্নীতিগ্রস্ত, অন্যায়পূর্ণ সমাজের প্রতিটি ব্যবস্থা যখন একে একে ধসে পড়েছে, তখন আল্লাহর হুকুমের মানদণ্ডে বিশ্বাসী হেযবুত তওহীদ মানবজাতির সামনে বিকল্প একটি সমাজকাঠামো উত্থাপন করছে, যা মানুষের জীবনের প্রতিটি অঙ্গনকে উন্নতি, প্রগতি, আস্থা, মানবিকতায় পূর্ণ করে দিতে পারে।

হেযবুত তওহীদের পরিশ্রমী সদস্যরা সেই সভ্যতার রূপকল্পকে দৃশ্যমান করার জন্য, পাশাপাশি নিজেরা প্রতিকূল ও সংকীর্ণ হয়ে আসা পৃথিবীতে টিকে থাকার জন্য কিছু উন্নয়নমুখী প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। তারা প্রমাণ দিচ্ছেন যে হেযবুত তওহীদ এমন এক মহান আদর্শের বাহক যে আদর্শ মানবজাতির সকল মৌলিক চাহিদাকে পূর্ণ করে তাদেরকে একটি সুখী-সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, হাসি-আনন্দে মুখর, অসাম্প্রদায়িক, ন্যায়-সাম্য-ভ্রাতৃত্বপূর্ণ, স্বার্থের দ্বন্দ্ব থেকে পবিত্র সমাজ তথা বিশ্ব উপহার দিতে সক্ষম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!