জে আর জামান
খানসামা উপজেলা প্রতিনিধি।

উত্তরবঙ্গের প্রত্যন্ত জেলা দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় দুই বছর ধরে পড়ে আছে অ্যাম্বুলেন্স, নেই কোনো চালক। এ অবস্থায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন রোগীরা। এতে সময়মতো চিকিৎসাসেবা নিতে পারছেন না উপজেলার প্রায় ২লাখের মতো মানুষ।

এমতাবস্থায় সরকারী অ্যাম্বুলেন্সের সুবিধা না পাওয়ায় উপজেলার মানুষদের ভরসা করতে হচ্ছে বেসরকারী অ্যাম্বুলেন্স, মাইক্রোবাস কিংবা অটোভ্যানের উপর। যার ফলে বাড়তি ভাড়া দিলেও চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে রোগীদের।
খোজ করলে জানা যায়, পাকেরহাটস্থ খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শেষ অ্যাম্বুলেন্সচালক প্রায় দুই বছর আগে অনিয়মের দায়ে বদলি হয়ে অন্য জায়গায় চলে যান। এরপর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার গাড়িচালক মিলন রায় কিছুদিন চালকের দায়িত্ব পালন করলেও পরবর্তীতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার গাড়ী আসলে তিনি আবার তার মুল দায়িত্ব পালন করেন।
যার ফলে চালকশূন্য হয়ে একটি নতুন ও দুইটি পুরাতন অ্যাম্বুলেন্স পড়ে আছে। দীর্ঘ দুই বছর হলেও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন কোনো অ্যাম্বুলেন্সচালক পদায়ন না হওয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গ্যারেজে একটি ও খোলা আকাশের নিচে একটি পড়ে আছে। ফলে অ্যাম্বুলেন্সের অনেক যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়েছে বলে দেখা গিয়েছে। পরবর্তীতে করোনালীন সময়ে করোনার নমুনা সংগ্রহের জন্য অ্যাম্বুলেন্স চালক হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার গাড়িচালক মিলন রায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, গত ৬জুলাই উপজেলার সহজপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত এক ব্যক্তিকে খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাকে রেফার করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। সরকারী কোনো অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস না থাকায় রোগীর স্বজনদের খুজতে হয় বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স। গাড়িগুলো সরকারি ভাড়ার তুলনায় অনেক বেশি অর্থ নিলেও বিপদে পড়ে কষ্টসাধ্য হলেও বেশি টাকা দিয়েই উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়মিত রোগী পরিবহন করেন রোগীর স্বজনরা।
খানসামা উপজেলার পাকেরহাট গ্রামের মোঃ শামসুজ্জোহা নামের এক যুবক জানান, গত কয়েকদিন আগে আমার দাদাকে আমি খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করাই। পরবর্তীতে হাসপাতাল কতৃপক্ষ আমাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেলে নিয়ে যেতে বলে। আমি সরকারী অ্যাম্বুলেন্স থাকার কারণে তাদের কাছে যাই অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের জন্য। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান অ্যাম্বুলেন্সের চালক না থাকার কারনে সার্ভিস নাই। বেশি টাকায় বেসরকারী অ্যাম্বুলেন্সে আমি আমার দাদাকে নিয়ে যাই । এতে টাকা বেশি লাগলেও অ্যাম্বুলেন্স ম্যানেজ করতে অনেক বেশী ভোগান্তির শিকার হই।
এ বিষয়ে খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মিজানুর রহমান বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরেই অ্যাম্বুলেন্সের চালক নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে চিঠি পাঠিয়েছি। এছাড়াও একাধিকবার তাদের সাথে এ বিষয়ে আলোচনা করলেও কোনো লাভ হয় নি। যত দ্রুত সম্ভব যদি নতুন অ্যাম্বুলেন্সচালক নিয়োগ দেওয়া হয় তাহলে চিকিৎসাসেবার মান আরও উন্নত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!