জে আর জামান, খানসামা উপজেলা প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার পুজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ধীমান দাসের অপসারণের দাবিতে সচেতন হিন্দু সমাজের ব্যানারে মানববন্ধন করেছে প্রায় দুই শতাধিক মানুষ।
বৃহস্পতিবার সকালে খানসামা উপজেলা পরিষদের প্রধান গেটের সামনে মানববন্ধন করার পরে বাংলাদেশ মহানাম সংকীর্তন সমন্বয় পরিষদ খানসামা উপজেলা শাখার সভাপতি বাবুল চন্দ্র রায় ও সাধারন সম্পাদক জগদীশ চন্দ্র রায় স্বাক্ষরিত খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম এর মাধ্যমে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন তারা।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয় যে, খানসামা উপজেলা শাখার আওতাধীন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ আংগারপাড়া ইউনিয়ন শাখার সাধারন সম্পাদক ও উপজেলা পুজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ধীমান দাস দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত। বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক ইস্যু সৃষ্টি, নিরীহ হিন্দু পরিবারের ঘরবাড়ি উচ্ছেদ, রাজনৈতিক ব্যক্তি সম্পর্ক কটাক্ষ ও অপমান, নারীদের শ্লীলতা হানী,বিভিন্ন প্রকার অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত, সরকারী বিভিন্ন প্রকল্পের নামে অসহায় ব্যক্তিদের কাছে অবৈধভাবে চাদা উত্তলন ইত্যাদি কর্মকান্ডের মাধ্যমে খানসামা উপজেলার মানুষদের শান্তিপূর্ণ জীবনকে উদবিঘ্ন করে তুলেছে। এছাড়াও তার বিভিন্ন পদবী ও সাংবাদিকতার লেবাস গ্রহন করে তার লোকজন দিয়ে মানুষের উপর অত্যাচার করে, তার কথামতো না চললে পুজায় সরকারী অনুদান পর্যন্ত বন্ধ করার হুমকি দেন বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্মারকলিপিতে আরো উল্লেখ করা হয়, উপরোক্ত আচরণের জন্য গত ২১শে জুন হিন্দুদের একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে গিয়ে ধীমান দাসের সাথে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সাথে ধীমান দাসের বাক-বিতন্ডা হয়। পরবর্তীতে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে থানায় লিখিত অভিযোগ ও ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের লক্ষ্যে ২৬শে জুন হিন্দু সম্প্রদায়ের কিছু মানুষদের নিয়ে হীনউদ্দেশ্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ঘটানোর জন্য মিটিং আহ্বান করে। যার প্রেক্ষিতে ছাত্রলীগের ছেলেদের সাথে তার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। খানসামা উপজেলায় আবহমান কাল হতে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির সাথে বসবাস করে আসছে। ধীমান দাস ও তার সহযোগীরা যাতে কোনো প্রকার সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা কিংবা কোনো প্রকার রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় উত্তেজনা ছড়াতে না পারে তার যথাযথ প্রতিকারের জন্য আমরা নিম্ন সংগঠন, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গদের নিকট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আকুল আবেদন জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম বলেন, এসব বিষয়ে আমার কোনো এখতিয়ার নেই। আমি খুব দ্রুত এই স্মারকলিপি জেলা প্রশাসক বরাবর প্রেরণ করবো। এছাড়াও সকলকে মাস্ক পরিধান ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলারও পরামর্শ দেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!