মোঃ কামরুজ্জামান
কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি

কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী থানাধীন অঞ্চলে শুধুমাত্র জমির রেকর্ড জটিলতায় কুমারখালীতে বিসিক শিল্পনগরী স্থাপনে বিলম্ব হচ্ছে। বিসিক শিল্পনগরীর জন্য বারবার সরকারি উদ্যোগ নেয়া হলেও তা আলাের মুখ দেখেনি। নতুন করে বিসিক শিল্পনগরী স্থাপনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিসিক থেকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও ঋণ নিয়ে শিল্পে জড়িয়ে অনেকে সফলতা পেলেও কেউ কেউ নানাবিধ কারণে পুঁজি পর্যন্ত হারিয়ে পথে বসেছে। মূলত নির্ধারিত জায়গা না থাকায় অপরিকল্পিত ও বিক্ষিপ্তভাবে গড়ে উঠেছে তাঁত সহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান। কুমারখালীতে বিসিক শিল্প নগরী স্থাপনের দাবি উঠে আসছে বহুদিন থেকেই। কিন্তু কার্যকর হচ্ছে না ।

সর্বশেষ কুমারখালীকে অর্থনৈতিক জোন হিসেবে গড়ে তুলতে নতুন করে আধুনিক ও পরিকল্পিত একটি বিসিক শিল্পনগরী স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী মহাসড়কের কুমারখালী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের পাশের ডোবা ভরাট করে অত্র জায়গায় শিল্পনগরী করার পরিকল্পনা নিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়।

নির্ধারিত স্থানের তথ্য নিশ্চিত করে কুষ্টিয়া বিসিকের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ভারপ্রাপ্ত) সোলায়মান হোসেন বলেন, অনেকেই শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু বিসিকের নির্ধারিত জায়গা না থাকায় অপরিকল্পিতভাবে যত্রতত্র কলকারখানা গড়ে উঠেছে। সেজন্য আধুনিক ও পরিকল্পিত নতুন বিসিক শিল্প নগরী গড়ে তোলার জন্য কুমারখালীতে প্রায় একশ’ একর জমি নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি আরাে বলেন, নির্ধারিত স্থানের জমি আগে এক ফসলি ভোবা হিসেবে চিহ্নিত থাকলেও সর্বশেষ রেকর্ড সংশোধনীতে ভুল করে ধানী জমি হিসেবে রেকর্ড হওয়ায় বিলম্ব হচ্ছে। তিনি আরো জানান, অচিরেই নির্ধারিত জায়গা নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সর্বস্তরের জনগণের সাথে মতবিনিময় করা হবে।

উল্লেখ্য, ১৯৭৮ সালে কুমারখালীতে বিসিক শুধুমাত্র তাঁতশিল্প নিয়ে সীমিত পরিসরে কার্যক্রম শুরু করে। যার থেকে সহায়তা তেমন পাননি কুমারখালীর শিল্প মালিকেরা। সেটি ২০০৮ সাল থেকে বর্তমানে বাংলাদেশের তাঁত বোর্ডের একটি শাখা হিসেবে টিকে আছে। যদিও স্থানীয়রা পৌরসভার সামনে পুকুরের পাড়ের অত্র সরকারি প্রতিষ্ঠান তাঁতবাের্ডকে বিসিক বলেই চেনে।

তাঁতবাের্ডের সেবা সম্পর্কে আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রাপ্ত রানা টেক্সটাইলের পরিচালক মাসুদ রানা জানান, তাঁত শিল্প সেবা আরো উন্নত হওয়া জরুরি। নতুন আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপনের আশায় রয়েছে কুমারখালীর তাঁত শিল্পের মালিকেরা। তিনি আরো বলেন, বিসিক শিল্প নগরী প্রতিষ্ঠা করা দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার। বিসিক স্থাপিত হলে সর্ব প্রথম পরিবেশবান্ধব ইটিপি চালুর প্রতি গুরুত্ব দেন এই তরুর সফল শিল্পপতি।

কুমারখালীতে প্রত্যাশিত বিসিক শিল্পনগরী প্রতিষ্ঠা করার ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীবুল ইসলাম খান বলেন, ৫মাস আগেই জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে, কার্যক্রম চলমান আছে।

কুমারখালী পৌরসভার মেয়র সামছুজ্জামান আর জানান, শিল্প নগরী গড়ে উঠলে এ অঞ্চলের মানুষের ব্যবসা বাণিজ্য ও জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে এবং অর্থনৈতিক শক্তি হবে চাঙ্গা । কুমারখালীতে বহু প্রত্যাশিত বিসিক শিল্পনগরী শুধুমাত্র জমির রেকর্ড সংশোধনীতে ভুল থাকায় স্থাপনে বিলম্ব আর দেখতে চাচ্ছেন না সংশ্লিষ্টরা। বিসিক থেকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নেয়া শিল্পোদ্যোক্তারা এতে ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন। তারা সকল জটিলতার দ্রুত সমাধান কামনা করে বিসিক শিল্পনগরী প্রতিষ্ঠা করার ব্যাপারে জোর দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!