কাবিরুল ইসলাম গোমস্তাপুর
(চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি:

বিজিবি কর্তৃক আটককৃত ১৭ টি গরুনিলাম ডাকের মাধ্যমে পেয়েছে আওয়ামীলীগ নেতা ও চাল ব্যবসায়ী গোলাম মোর্তূজা। ভারতীয় গরু সন্দেহে বিজিবি গরুগুলো আটক করে কাস্টমসে জমা দেয়।
তবে গরু ব্যবসায়ী বাশিরের দাবি, এ ১৭টি গরু তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ও তক্তিপুর হাট থেকে কিনেছিলেন। এ গরুগুলোর
স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আছে তাদের কাছে। তিনি বলেন, অবশ্য এই গরুগুলো ভারত থেকে আসা। ১ বছর পূর্বে সিলেটের তামাবিল সীমান্ত দিয়ে বৈধ পথে গরুগুলো নিয়ে আসা হয়। তারপর নিজ বাড়িতে রক্ষণাবেক্ষণ করে গরুগুলোকে বিক্রয় উপযোগী করা হয়। আসন্ন কোরবানির ঈদে গরুগুলো বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে হাট থেকে ক্রয় করে নোয়াখালী ও ফেনীর ব্যবসায়ী বাবুল চৌধুরী, খুরশেদ ও হানিফের মাধ্যমে চট্টগ্রাম নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। হাট থেকে ট্রাকযোগে নিয়ে আসার পথে গোমস্তাপুর উপজেলার গোমস্তাপুর কলেজ মোড়ে ট্রাক বোঝাই গরুগুলোকে আটক করে বিজিবি। পরে তাদের গোবরাতলা বিজিবি ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। গরু ব্যবসায়ীরা অনেক ছোটাছুটি করে উপর মহলে দেনদরবার করে প্রচুর চেষ্টা করে
গরুগুলোকে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য কিন্তু ব্যর্থ হয়। অবশেষে গরুগুলোকে রহনপুর শুল্ক গুদামে জমা দেয়া হয়। ১৩ জুলাই নিলামের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে
নিলামে গরুগুলির দর সর্বোচ্চ ২২ লক্ষ টাকা উঠে। কিন্তু ভ’ক্তভোগী গরু ব্যবসায়ীদের প্রচেষ্টার ফলে সেই ডাক স্থগিত হয়ে যায়। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার আবারো নিলামের ব্যবস্থা করা হয়। এখানে গোলাম মোর্তূজা নামে এক আওয়ামীলীগ নেতা ও চাল ব্যবসায়ী ২০ লক্ষ ৯২ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে গরুগুলোকে নিলাম ডাকে কিনে নেন। এখানেই শেষ নয়। অতঃপর অনুষ্ঠিত হয় সমঝোতার নিলাম। এখানে গরুগুলোর দাম ওঠে ২৫ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা। কয়েকজন গরু ব্যবসায়ী যৌথভাবে এ গরুগুলো কিনে নেন। উদ্বৃত্ত টাকাগুলো যুবলীগ নেতা মোমিন বিশ্বাস ও সিরাজুল ইসলাম টাইগার এর নেতৃত্বে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ কর্মীদের মাঝে এবং ৯০ টি বিডির বিপরীতে যারা অংশগ্রহণ করেছেন তাদের মাঝে ভাগ বাটোয়ারা করে দেয়া হয়। হতভাগ্য গরু ব্যবসায়ীদের ২ টি নিলামেই
অংশগ্রহণ করতে দেয়া হয়নি। এ বিষয়ে জানতে মোমিন বিশ্বাস ও সেরাজুল ইসলাম টাইগার এর সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেনি। রহনপুর শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা মোখতার হোসেন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিজিবি কর্তৃক আটককৃত ১৭ টি গরু প্রকাশ্য নিলাম
ডাকের মাধ্যমে ম্যাজিস্ট্রেট, শুল্ক কর্মকর্তা, বিজিবি ও পুলিশ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে গোলাম মোর্তূজা নামে একজনকে দেয়া হয়েছে। পরে আর কোথায় নিলাম ডাক হয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!